• ঢাকা
  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ এএম


‘আমাকে নিয়ে আর নিউজ করার দরকার নেই, শান্তির জীবনটা ফিরিয়ে দিন’: নায়লা শারাফ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৬:৪৫ পিএম

উচ্চ বেতনের চাকরি ও বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সুযোগ ছেড়ে প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী নায়লা শারাফকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও প্রশংসাপত্র পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তাঁকে নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হওয়ার পর নিজের আগের শান্ত ও নিরিবিলি জীবনে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন এই শিক্ষক।বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) প্রকৌশলী এবং জনতা ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায়ও সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রচলিত উচ্চ বেতনের চাকরি ও করপোরেট জীবনের পথ ছেড়ে তিনি বেছে নেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা।শিশুদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গত সাত বছর ধরে তিনি নেত্রকোণা সদর উপজেলার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবন বদলে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে আসছেন তিনি।গত ৫ অক্টোবর ‘ঢাকা পোস্ট’-এ নায়লা শারাফকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাঁর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র পাঠানো হয়।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নায়লা শারাফের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, স্বতঃস্ফূর্ত দায়িত্ববোধ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশংসা করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘ব্যতিক্রমী কাজের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে অনন্য হয়ে উঠেছেন… দেশ এবং জনগণের স্বার্থে আপনার এ ধরনের ইতিবাচক কার্যক্রমে আমি আনন্দিত।’প্রশংসাপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখলে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে নায়লা শারাফের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সরকারের সার্বিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি পেয়ে আবেগাপ্লুত নায়লা শারাফ সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর প্রচারবিমুখ উদ্যোগটি মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।তবে তাঁকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা শুরু হলেও প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে চান এই শিক্ষক। তাঁর আকাঙ্ক্ষা, আগের মতোই শান্ত ও নিরিবিলি জীবনযাপন করে যাওয়া এবং প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাওয়া।নিজেকে গণমাধ্যমের অতিরিক্ত আলোচনার বাইরে রাখার আকুতি জানিয়ে নায়লা শারাফ বলেন, ‘আমাকে নিয়ে আর নিউজ করার দরকার নেই, শান্তির জীবনটা ফিরিয়ে দিন।’নায়লার এই বক্তব্যে উঠে এসেছে প্রচারের চেয়ে নিজের কাজের প্রতি তাঁর মনোযোগী থাকার ইচ্ছা। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মানুষের প্রশংসা পাওয়ার পরও তিনি চান, পরিচিতির বাড়তি চাপ ছাড়াই আগের মতো শিশুদের নিয়ে তাঁর শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে।

/বিএসএস