• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ এএম


ঈদে যানজট কমাতে বিশেষ প্রস্তুতি সরকারের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ মে ২০২৬ ১১:৩৬ পিএম

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে পোশাক কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া, সড়কে কোরবানির পশুর হাট না বসানো, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারির মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, পোশাক কারখানাগুলোতে তিন ধাপে ছুটি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে। মালিকপক্ষ এ বিষয়ে সম্মত হলেও গতবার তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তিনি বলেন, কিছু পোশাক কারখানার বিশেষ কার্যাদেশ থাকায় তাদের উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া জরুরি হয়ে পড়ে, না হলে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘এখনো শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। তবে আমাদের জোরালো দাবি রয়েছে, যেসব কারখানায় জরুরি কার্যাদেশ নেই, তারা যেন তিন বা চার ধাপে শ্রমিকদের ছুটি দেয়। কেউ একটু আগে গেলে যাত্রীর চাপও কমবে। মালিকপক্ষও এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে।’

তবে গতবারও একই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি উল্লেখ করে এ বিষয়ে কিছুটা শঙ্কার কথাও জানান তিনি।

পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে আগামী ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু থাকবে। এ নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বিআরটিএর ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি আরও ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়াসহ দেশের সব বাস টার্মিনালে বিশেষ ভিজিল্যান্স ও মনিটরিং টিম গঠন করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদের পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রোভার স্কাউট সদস্যদেরও দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রাখা হবে।

ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিআরটিসি ঢাকা মহানগর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে বিশেষ ঈদ সার্ভিস চালু করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত স্ট্যান্ডবাই বাসও প্রস্তুত রাখা হবে। এছাড়া যাত্রীচাপ বিবেচনায় ‘পিক আওয়ারে’ মেট্রোরেলের হেডওয়ে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সড়কের নিরাপত্তা জোরদারে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে ‘কনভেক্স ব্লাইন্ড স্পট মিরর’ স্থাপন, ব্ল্যাক স্পটগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চালকদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি বিশেষ চিকিৎসক দল পেশাদার চালকদের ডোপ টেস্ট পরিচালনা করবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।