• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ এএম


সীমান্তে আর নতজানু হবে না বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ মে ২০২৬ ১১:৩৪ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, সীমান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশ আর নতজানু অবস্থানে থাকবে না। তিনি বলেন, ‘এ বাংলাদেশ আর সেই বাংলাদেশ নেই। বাংলাদেশের মানুষ ও সরকার কাঁটাতারের বেড়ার ভয় পায় না। বাংলাদেশেরও সীমান্ত নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে।’

আজ সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় রাজ্য সচিবালয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের কাছে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ জন্য মুখ্য সচিব এবং ভূমি ও রাজস্বসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর নির্বাচনী বক্তব্য অনেক সময় উগ্র হতে পারে এবং ভোটের রাজনীতিতে অশোভন বক্তব্যও দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে সরকার পরিচালনা ভিন্ন বিষয়।

তিনি বলেন, ‘দেখি, আমরা একটু সময় দিই; রেটরিক আর গভর্ন্যান্সে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার একই জিনিস এগিয়ে নিতে চাচ্ছে কি না। আর আমাদের সম্পর্ক তো প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে থাকে। এখানে আমরা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে ঢুকতে চাই না।’

বাংলাদেশ সীমান্ত ইস্যুতে ভয় পায় না উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন ডর দেখানোর মতো কোনো জায়গা নাই। যদি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চান, বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না। বাংলাদেশের সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না। যেখানে আমাদের কথা বলা দরকার, আমরা কথা বলব।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি চায়। প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী বাংলাদেশ। চ্যালেঞ্জ থাকলেও আলোচনার পথ খোলা থাকলে সমাধানের সুযোগ তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া এক সন্ত্রাসী হাসিনা এখন ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডে অবস্থান করছে। এটাও নিশ্চিত করতে হবে, ভারতের মাটি ব্যবহার করে যেন কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয় এবং তাকে কোনো সুযোগ না দেওয়া হয়। আমরা আশা করি এবং ভারতের সরকারের কাছ থেকে আশ্বস্তও হয়েছি যে, তারা সেই সুযোগ দেবে না।’

দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের নেতৃত্ব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সংলাপের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সেগুলোর সমাধান সম্ভব।

তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এতদিন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কারণে এ চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি বলে দাবি করত। এখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং কেন্দ্রেও বিজেপি সরকার রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে কম প্রতিবন্ধকতা থাকবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং এ সম্পর্কের সূচনা করেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে এটি প্রথম বেইজিং সফর হবে বলেও জানান তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় অংশীদার এবং সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চীনও আগ্রহী।

তিস্তা প্রকল্পে চীনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীনের এক্সিম ব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে। যদিও এখনো বিস্তারিত আলোচনা বাকি রয়েছে এবং সমীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশ নিয়ে কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চীন সফর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সফরের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে চীন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ায় ভবিষ্যতে সুবিধাজনক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর অনুষ্ঠিত হবে।