• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ এএম


প্রবাসে যাওয়ার আগে মাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট, ভূমধ্যসাগরে নিভে গেল তরুণ ফাহিমের প্রাণ

The Pulse BD online news portal
আপডেট টাইম: ৩০ মার্চ ২০২৬ ৯:৩৫ পিএম

‘মায়ের কথা বারবার মনে পড়ে। দেশে থাকতে এক গ্লাস পানিও নিজে তুলে খেতে হয়নি। আর এখন প্রবাসে এসে বুঝছি, মাকে কত কষ্ট দিয়েছি।’—ফেসবুকে এমন আবেগঘন কথাই লিখেছিলেন ২০ বছর বয়সী ফাহিম আহমদ মুন্না।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দেওয়া সেই পোস্টটিই ছিল তাঁর জীবনের শেষ ফেসবুক বার্তা। একটি ছোট ভিডিওতে মানিব্যাগে রাখা মায়ের ছবি দেখিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। পোস্টের আরও একটি লাইনে লিখেছিলেন, ‘বোকাসোকা আম্মুটাই দিন শেষে আমার জন্য কাঁদে, মন খারাপ করে, মনভরে দোয়া করে।’ এখন সেই কথাগুলোই স্বজন ও বন্ধুদের চোখে জল এনে দিচ্ছে।

পরিবারের ভালো ভবিষ্যতের আশায় সৌদি আরব থেকে লিবিয়ায় পাড়ি জমান ফাহিম। সেখান থেকে ইউরোপে যাওয়ার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ লিবিয়া-গ্রিস রুটে ‘গেমে’ ওঠেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। ভূমধ্যসাগরে নৌকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে আরও ১২ জনের সঙ্গে প্রাণ হারান এই তরুণ।

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবিরনগর গ্রামের বাসিন্দা ফাহিম ছিলেন মা–বাবার একমাত্র সন্তান। তাঁর বাবা ফয়েজ উদ্দিন দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত, আর মা হেলেন আক্তার একজন গৃহিণী। একমাত্র সন্তানের মৃত্যুসংবাদে মা বর্তমানে শয্যাশায়ী।

ফাহিম দোয়ারাবাজার সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে কনিষ্ঠ। স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছেড়ে যাওয়া এই তরুণের অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।