• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২০ পিএম


বাবার বাড়ির নাশতা নিয়ে বি’রোধ, অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর মৃ’ত্যুর ঘটনায় শাশুড়ি গ্রে’প্তার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৬ পিএম

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া নাশতার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধরের শিকার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাতুন নূর সিফাতের (২২) মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মারা যান তিনি। এ ঘটনায় তাঁর শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত সিফাতুন নূর চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার মো. নূর ও জুহিনুর আক্তারের মেয়ে। মাত্র পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা এলাকার ইলিয়াস খাঁ বাড়ির দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিফাতের মা জুহিনুর আক্তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নিজের হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের নাশতা নিয়ে যান। তবে নাশতার পরিমাণ কম হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন সিফাত ও তাঁর মায়ের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে সিফাতের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম তাঁদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের মা। তাঁর দাবি, এ সময় সিফাতকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি পেটে লাথি মারা হয়।

সিফাতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতেই দুবাই থেকে তাঁর স্বামী তারেক ফোন করে সিফাতের শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতির খবর জানান। পরে স্বজনেরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি করার পর তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা মো. নূর অভিযোগ করেন, মারধরের ঘটনা এবং পেটের সন্তান নষ্ট হওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সিফাতের শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রচার করেছিলেন যে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন কুসুমপুরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত আকবর। তিনি জানান, পুলিশের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগে তাঁর শাশুড়িকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

/এসএন