পবিত্র কোরআনের হিফজ চর্চায় উৎসাহ দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে রাজধানীতে পাঁচ মাসব্যাপী আয়োজিত হিফজ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে ২৪৩ জন হাফেজে কোরআনকে সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিজয়ীদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। নগর উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় পৃষ্ঠপোষকতা করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে কৃতী হাফেজদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। এতে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় ঢাকার প্রায় ৮০০টি কওমি ও আলিয়া মাদরাসার ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। ১০, ২০ ও ৩০ পারা—এই তিনটি বিভাগে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা তিনজনসহ মোট ২৪৩ জন হাফেজকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার হিসেবে রাখা হয় ওমরাহ পালনের সুযোগ, নগদ অর্ধকোটি টাকা, ল্যাপটপ, বাইসাইকেল ও সম্মাননা স্মারক। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কোরআন হিফজে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মেধার স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে হাফেজদের নিয়ে এমন বিরল ও বৃহৎ আয়োজন আগে কখনো হয়নি। এই কুরআন যাদের বুকে আল্লাহ ধারণ করার তাওফিক দিয়েছেন, তাদের আমরা কেবল মেহরাবে নয়, বরং আগামী দিনে সমাজের নেতৃত্বের আসনে দেখতে চাই।’এ সময় প্রতিযোগিতার ১০ পারা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী শিশু হাফেজ রিদওয়ান বিন আলীর বাবা, মা ও উস্তাদকে ব্যক্তিগতভাবে ওমরাহ করানোর বিশেষ ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘কওমি কিংবা আলিয়া—নেসাবের ভিন্নতা থাকলেও পবিত্র কুরআনের প্রশ্নে আলেম ও হাফেজরা সবাই এক ও অভিন্ন। হাফেজে কুরআনরা যেন সমাজে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে পারেন এবং একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এ মহতী সম্মাননার আয়োজন।’অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা যায়নুল আবেদিন, নগর উন্নয়ন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মূসা, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়েখ হাফেজ আব্দুল হক এবং মুফতি আলী হাসান ওসামাসহ বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
/বিএসএস