• ঢাকা
  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম


সৌদি আরব ও হু’তিদের সংলাপে সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইরান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৮:১৬ পিএম

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন আরাগচি।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরান-সমর্থিত হুতিদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আব্বাস আরাগচি বলেন, রাজনৈতিক সমাধানের পথ উপেক্ষা করে সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলোর কোনো সামরিক সমাধান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরাগচি আরও জানান, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেন বিষয়ে ওয়াশিংটনের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আবারও হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যদিও বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না। তবে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে আগের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে নানা মতপার্থক্য থাকলেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু রয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়। এর আগে সাত বছর ধরে দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল।

তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান ও রিয়াদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। ওই যুদ্ধের পর ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল।

এর আগে গত মার্চে ইরানকে সতর্ক করেছিলেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান। তিনি বলেছিলেন, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়টি আর অনির্দিষ্টকাল সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে তেহরানকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

/এসএন