• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম


বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে গুলি করে ফেলে গেল বিএসএফ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫:৪৪ পিএম

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে গরু পাচারকারী সন্দেহে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই ভারতীয় নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাদের বাংলাদেশে ফেলে যাওয়ার পর স্থানীয়দের সহায়তায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।আহতরা হলেন ভারতের দক্ষিণ সালমারা-মাঙ্কাচর জেলার সুখচর থানার বড়বালু গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও একই এলাকার খাজা আব্দুল আলীম (৩৯)।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত দুজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরোনো ভবনের চতুর্থ তলায় ১৫ নম্বর সার্জারি পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির মতো ক্ষত ও রক্তাক্ত জখম রয়েছে।চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসেন জানান, রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মাঙ্কাচর জেলার নারায়ণপুর স্থলবন্দরসংলগ্ন চরে তারা নিজেদের গরু দেখাশোনা করছিলেন।ইসমাইলের ভাষ্য, এ সময় বিএসএফ সদস্যরা সেখানে এসে তাদের বাংলাদেশি বলে গালাগাল করেন। তারা বিএসএফ সদস্যদের জানান, তারা ভারতীয় নাগরিক এবং গরু পাচারকারী নন। গরুগুলো তাদের নিজেদের এবং বিএসএফ সদস্যরা প্রতিদিনই গরুগুলো দেখতে পান বলেও তারা জানান।তবে ইসমাইলের দাবি, তাদের কোনো কথা না শুনে বিএসএফ সদস্যরা দুই নদী পার করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান এবং গুলি করেন।তিনি বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টা জ্ঞান ছিল না আমার। এ সময় তারা আমাদের বাংলাদেশে ছেড়ে দেয়। পরে নদীতে মাছ ধরতে থাকা দুই বাংলাদেশির কাছে সাহায্য চাইলে তারা আমাদের সহযোগিতা করেন।’ইসমাইল জানান, ওই দুই বাংলাদেশি প্রথমে তাদের যাত্রাপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা না হওয়ায় রাত ৯টার দিকে তাদের রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ওই দুই বাংলাদেশি সেখান থেকে চলে যান। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।সরেজমিনে দেখা যায়, ইসমাইল হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছররা গুলির দাগ রয়েছে। তার ডান হাত থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা তার হাতে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন এবং তাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থ খাজা আব্দুল আলীম কথা বলতে পারছেন না। তার শরীরেও অসংখ্য ছররা গুলির দাগ রয়েছে। ডান পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় সেখানে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে।এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ঘটনাটি কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্ত এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গেলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি।এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, আহত দুই ব্যক্তি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

/বিএসএস