ইরানি জাতির প্রতিরোধের মুখে যুক্তরাষ্ট্র হতাশ হয়ে পড়েছে—এমন দাবি করে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করেছেন, সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরান তার শত্রুদের নতুন নতুন চমক দেখানো অব্যাহত রাখবে।রোববার ইরানি পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গণমাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য দিলেও সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে সময়ক্ষেপণ এবং একতরফা শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ইরানের অবস্থান ‘সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও চূড়ান্ত’ উল্লেখ করে স্পিকার জোর দিয়ে বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে তেহরানের ঘোষিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।গালিবাফের দাবি, মার্কিন কর্তৃপক্ষ পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানের সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি এবং বিভ্রান্তিকর মানসিক যুদ্ধ পরিচালনার চেষ্টা করছে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের প্রতিদিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত নীতি নির্ধারণ করে না।তিনি বলেন, ইরান সংবাদমাধ্যমের ‘ফাঁকা বুলি’ বা মিথ্যা দ্বৈততার ওপর নির্ভর না করে শত্রুর বাস্তব আচরণ ও পদক্ষেপের ভিত্তিতে নিজেদের ব্যবস্থা নেয়।ইরানি স্পিকার আরও বলেন, ইরান ‘শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা’ কৌশলে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান আবেগী বা ভীত কোনোটিই নয়; বরং যুদ্ধ এবং আলোচনা—দুই পরিস্থিতির জন্যই সমানভাবে প্রস্তুত রয়েছে।গালিবাফ বলেন, ‘আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে পুরোপুরি উপস্থিত থাকব এবং শত্রুকে নতুন চমকের মুখোমুখি করব। পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে এবং ইরানি জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে কূটনীতিকে ব্যবহার করব।’আলোচনার টেবিলে সাফল্যের সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতির সম্পর্ক তুলে ধরে গালিবাফ বলেন, যে পক্ষ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ময়দানে নামে, আলোচনার টেবিলে জয়ী হওয়ার সক্ষমতাও তারই থাকে।তিনি আরও দাবি করেন, ইরান ও রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বর্তমানে তাদের শক্তির সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের মধ্যে সর্বোচ্চ রণকৌশলগত সক্ষমতা এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।ইসলামিক বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনির নির্দেশনায় ইরান শত্রুদের কোনো ‘দিবা স্বপ্ন’ বা অলীক কল্পনা বাস্তবায়িত হতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
/বিএসএস