• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ এএম


বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পেছনে যে পাঁচ কারণ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২০ জুলাই ২০২৬ ৯:২৬ এএম

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো শিরোপা জিতেছে স্পেন। ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে ফেররান তরেসের একমাত্র গোলে নির্ধারিত হয় বিশ্বকাপের ভাগ্য।

লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। তবে পুরো ম্যাচের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কেন শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। নিচে তুলে ধরা হলো পরাজয়ের পাঁচটি প্রধান কারণ।

১. আক্রমণভাগের চরম ব্যর্থতা

ফাইনালে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ছিল প্রায় নিষ্প্রভ। প্রথমার্ধে তারা একটি কর্নারও আদায় করতে পারেনি। প্রতিপক্ষের বক্সে কার্যকর উপস্থিতি কিংবা গোলমুখে উল্লেখযোগ্য কোনো শটও দেখা যায়নি।

ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত স্পেন যেখানে ১০টির বেশি শট নিয়েছিল, সেখানে আর্জেন্টিনার শটের সংখ্যা ছিল শূন্য। নির্ধারিত সময়জুড়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি তারা। অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল মেসির একটি দূরপাল্লার শট এবং জুলিয়ানো সিমিওনের একটি সুযোগ ছাড়া আক্রমণে আর তেমন কিছুই করতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। এমন পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতা কঠিনই ছিল।

২. স্পেনের দখলদারিত্বের সামনে অসহায় আর্জেন্টিনা

পুরো ম্যাচে বলের দখলে এবং ছন্দে ছিল স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য। মধ্যমাঠে রদ্রি ও পেদ্রির নিয়ন্ত্রণ, আর দুই প্রান্তে লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের গতিময় ফুটবল আর্জেন্টিনাকে স্বাভাবিক খেলাই খেলতে দেয়নি।

স্পেনের উচ্চমানের প্রেসিংয়ের কারণে বল পেলেও বেশিক্ষণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে তারা ধীরে ধীরে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে এবং কার্যকর পাল্টা আক্রমণ গড়ার সুযোগও হারিয়ে ফেলে।

৩. এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড

নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এনজো ফার্নান্দেজ।

এমিলিয়ানো মার্তিনেজের একটি দুর্দান্ত সেভের পর ফিরতি বলে কুবারসির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি লাল কার্ড দেখেন। ফলে অতিরিক্ত সময়ের পুরো ৩০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে। এমনিতেই আক্রমণে পিছিয়ে থাকা দলের জন্য একজন কম নিয়ে ম্যাচে টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

৪. বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন লিওনেল মেসি

পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কিন্তু ফাইনালে তাকে কার্যত একাই লড়াই করতে হয়েছে।

খেলোয়াড় বদলের পর একপর্যায়ে আর্জেন্টিনা পাঁচ ডিফেন্ডার ও তিন মিডফিল্ডার নিয়ে খেলতে বাধ্য হয়। সামনে একমাত্র আক্রমণভাগে ছিলেন মেসি। বলের পর্যাপ্ত জোগান না পাওয়ায় তিনি নিজের স্বাভাবিক প্রভাব রাখতে পারেননি। হুলিয়ান আলভারেজকে তুলে নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায়। ফলে দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

৫. রক্ষণে একটি ভুলই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচ

অতিরিক্ত সময়ের বিরতির পর মাত্র ৩৭ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল হজম করে আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর ক্রস, নিকো উইলিয়ামসের হেড হয়ে বল যায় ফেররান তরেসের কাছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি জালে বল পাঠান।

সেট-পিস এবং ক্রস সামলানোর ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার দুর্বলতা পুরো ম্যাচেই চোখে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই জায়গা থেকেই আসে ম্যাচের একমাত্র এবং সিদ্ধান্তসূচক গোল। এরপর ১০ জনের দল নিয়ে সমতায় ফেরার মতো আক্রমণাত্মক শক্তি আর অবশিষ্ট ছিল না।

শেষ পর্যন্ত এমিলিয়ানো মার্তিনেজের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ সময় ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেও আক্রমণে ব্যর্থতা, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড—সব মিলিয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যায় স্কালোনির দলের। অন্যদিকে, সংঘবদ্ধ, ধৈর্যশীল ও কৌশলগতভাবে নিখুঁত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্পেন।

/এসএন