জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আজরাক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে সপ্তম দফার ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজরাক বিমানঘাঁটির ভেতরে অবস্থানরত মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের অবস্থানস্থল, সেনাদের আবাসন ভবন এবং সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণের একটি বড় হ্যাঙ্গারকে লক্ষ্য করে দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন হামলা চালানো হয়।
ইরানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও উপস্থিতির বিরুদ্ধে যে ধারাবাহিক প্রতিরোধ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, এই হামলা তারই অংশ।
তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ইরানের মূল ভূখণ্ডে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা আরও ছয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানের সামরিক কমান্ড আরও জানায়, দেশটির স্থলভাগ, জলসীমা কিংবা আকাশসীমায় ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে আরও বড় ধরনের পাল্টা সামরিক আঘাত হানা হবে।
এদিকে, এই হামলার দাবির মধ্যেই ইরানের অন্তত সাতটি ভিন্ন স্থানে নতুন করে রহস্যজনক ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতেই এসব বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ওয়াশিংটন সময় বিকেল ৪টা থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণাও দিয়েছে মার্কিন সামরিক কমান্ড।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে এই সংঘাতের বিস্তার ঘটেছে। এতে বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
/এসএন