প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করে রাজপথ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে তারা অনড় রয়েছেন। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে রাতেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা এই ঘোষণা দেন। এরপর তারা সড়ক ছেড়ে দিলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হন।
সংসদ ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।অবরোধ চলাকালে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে শিক্ষার্থীরা অবস্থান অব্যাহত রাখলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।পরবর্তীতে পুলিশ সংসদ ভবনের সামনের এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিলে তারা আসাদগেটের আড়ং মোড় এলাকায় অবস্থান নেন। সেখানে উত্তেজিত কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ আবারও ধাওয়া দিয়ে তাদের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে সরিয়ে দেয় এবং আসাদগেট মোড়ে অবস্থান নেয়।এরপরও আন্দোলন থেমে থাকেনি। রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান এবং বিভিন্ন দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দুর্যোগ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। তবে দিনের কর্মসূচি এখানেই স্থগিত করা হলো।আগামী দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, রাতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর আগামীকালের কর্মসূচি জানিয়ে দেওয়া হবে। কর্মসূচি হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন অথবা শিক্ষাভবন অভিমুখে লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
/বিএসএস