• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম


‘সুপার এল নিনো’ শঙ্কা: ভাঙতে পারে ১৪০ বছরের তাপমাত্রার রেকর্ড

আপডেট টাইম: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৩:১৪ পিএম

এল নিনো পরিস্থিতি শক্তিশালী আকার ধারণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গত ১৪০ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এল নিনো কী ও কীভাবে কাজ করে

সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হলো এল নিনো। এ অবস্থায় মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর বিপরীত অবস্থা হলো লা নিনা, যেখানে পানির তাপমাত্রা কম থাকে। আর এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থাকে ‘নিউট্রাল’ বলা হয়। সাধারণত প্রতি তিন থেকে সাত বছর পরপর এ ধরনের পরিবর্তন ঘটে এবং সামান্য ০.৫ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠানামার ওপরই বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন নির্ভর করে।

বৈশ্বিক আবহাওয়ায় প্রভাব

এল নিনোর প্রভাবে বায়ুপ্রবাহের ধরণ বদলে যায়, যার ফলে পৃথিবীর এক অঞ্চলে তীব্র খরা দেখা দিলে অন্য অঞ্চলে অতিবৃষ্টি বা ঝড় বৃদ্ধি পায়। অতীতে শক্তিশালী এল নিনোর সময় আফ্রিকার কিছু দেশে ভয়াবহ খরা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে পানির সংকট তৈরি হয়েছিল।

সাধারণত অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ ও মধ্য আফ্রিকা এবং আমাজন অঞ্চলে খরা ও তাপপ্রবাহ বাড়ে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাংশ, মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য-দক্ষিণ এশিয়ায় অতিবৃষ্টির প্রবণতা দেখা যায়। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বৃষ্টি দীর্ঘমেয়াদে পানির সংকট দূর করতে না পারলেও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

‘সুপার এল নিনো’ কেন উদ্বেগের

সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে গেলে তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। ১৯৫০ সালের পর এ ধরনের ঘটনা খুব কমই ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এবার এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হতে পারে।

পূর্বাভাস ও অনিশ্চয়তা

বর্তমানে আবহাওয়া ধীরে ধীরে লা নিনা অবস্থা থেকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরছে। বিভিন্ন পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মে এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ। তবে বসন্তকালে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে পূর্বাভাসে কিছু অনিশ্চয়তা থেকে যায়, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘বসন্তকালীন অনিশ্চয়তা’ বলে থাকেন।

প্রস্তুতির আহ্বান

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা-এর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক শক্তিশালী এল নিনো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। তিনি বলেন, আগাম পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কৃষি, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব এবং এতে বহু প্রাণ রক্ষা করা যেতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে তিনি বিশ্বজুড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।