• ঢাকা
  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ পিএম


অপরাজিত থেকেও বিদায়, তবু মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ ছাড়ল ইরান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ জুন ২০২৬ ১:১৮ পিএম

‘যদি কোনো কিছুকে তুমি পুরোটা হৃদয় দিয়ে চাইতে পারো, তাহলে পুরো মহাবিশ্ব তোমাকে সেটা পাইয়ে দিতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়’— ব্রাজিলিয়ান লেখক পাউলো কোয়েলহোর বিখ্যাত উপন্যাস আলকেমিস্ট-এর এই উক্তিটি যেন বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে উল্টো বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে ইরানের জন্য।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিল পশ্চিম এশিয়ার দেশটি। সেই স্বপ্নের খুব কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্য, ভিএআর এবং অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফল—সবকিছুই যেন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে যায় ইরানের বিপক্ষে।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে জয় পেলেই নিশ্চিত হতো রাউন্ড অব ৩২। যোগ করা সময়ে খালিলজাদেহ বল জালে জড়াতেই সিয়াটল থেকে তেহরান পর্যন্ত শুরু হয়ে যায় উদযাপন। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। মুহূর্তেই ভেঙে যায় ইরানের স্বপ্ন।

এরপরও শেষ হয়ে যায়নি আশা। সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর তালিকায় জায়গা পাওয়ার জন্য তাকিয়ে থাকতে হয় অন্য ম্যাচগুলোর দিকে।

প্রথমে ক্রোয়েশিয়ার হার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তারা জয় পায়। এরপর ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে উজবেকিস্তান এগিয়ে গিয়ে কিছুটা আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত কঙ্গো ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে।

সবশেষ ভরসা ছিল অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচ। যে কোনো একটি দল হারলেই নকআউটে উঠতে পারত ইরান। একাধিকবার ম্যাচের ফলাফল ইরানের পক্ষে যেতে শুরু করলেও শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ২-২ ড্র হয় ম্যাচটি। ফলে দুই দলই নকআউট নিশ্চিত করে, আর বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় ইরানকে।

তবে বিদায়ের মধ্যেও গর্ব করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে ইরানের। নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিশরের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিন ম্যাচেই ড্র করেছে তারা। পুরো গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচও হারেনি।

এর চেয়েও বড় বিষয়, টুর্নামেন্টজুড়ে কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে খেলতে হয়েছে দলটিকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দলের অনেক কর্মকর্তা ভিসা পাননি। খেলোয়াড়দেরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি না থাকায় প্রতিটি ম্যাচ খেলতে মেক্সিকো থেকে যাতায়াত করতে হয়েছে। এমনকি ম্যাচের আগের দিন স্টেডিয়ামে অনুশীলনের সুযোগও পায়নি ইরান।

মানসিক চাপ, দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিটি ম্যাচে লড়াই করেছে দলটি। নকআউটের একেবারে হাতছানি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি।

তবুও ইরানের এই বিশ্বকাপ অভিযানকে ব্যর্থ বলা কঠিন। কারণ তারা বিশ্বকাপের মঞ্চ ছাড়ছে অপরাজিত দল হিসেবে—আর সবচেয়ে বড় কথা, মাথা উঁচু করেই।

/এএসএফ