• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম


যুদ্ধবিরতির পর জ্বালানির বাজার স্বাভাবিক হবে কী?

আপডেট টাইম: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৩ এএম

ক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হওয়ার আগে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের নিয়মিত ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও ইউরোপে রপ্তানি হওয়া বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ইরান এই পথ বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ করেই বেড়ে যায়।

টাফটস ইউনিভার্সিটি-এর মেরিটাইম স্টাডিজের অধ্যাপক রকফোর্ড উইটজ আল জাজিরা-কে জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বুধবার (৮ এপ্রিল) মাত্র পাঁচটি এবং বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সাতটি জাহাজ পার হয়েছে। এই বড় ধরনের পতনই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনো সময় লাগবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা এবং বীমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।

উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি-এর আন্তর্জাতিক ব্যবসার অধ্যাপক উষা হ্যালি জানান, ইরাক-এর মতো কিছু দেশ স্টোরেজ সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল, যা পুনরায় চালু করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে—যদি নতুন করে কোনো অস্থিরতা না তৈরি হয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩.৩ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে।

সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি-এর সিনিয়র ফেলো র‍্যাচেল জিয়েম্বা মনে করেন, যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে রূপ নেয় কি না—তার ওপরই জ্বালানি সরবরাহের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ঝুঁকির কারণে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় বেশি থাকার আশঙ্কাই প্রবল।

সূত্র: আল জাজিরা