ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন এবং সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন মোনামির পদত্যাগের পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। নিজের ফেসবুক পোস্টে বিদায়ী প্রক্টরিয়াল টিম সম্পর্কে মিশ্র মূল্যায়ন তুলে ধরেন তিনি।
আব্দুল কাদের বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী সংকটময় সময়ে দায়িত্ব নিয়ে প্রক্টরিয়াল টিম সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি টিমের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও আনেন।
তার দাবি, প্রক্টরিয়াল টিমের কিছু সদস্য পেশাদারিত্বের সীমা লঙ্ঘন করে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে সুবিধা দিয়েছেন। এমনকি ওই ছাত্রসংগঠনের চাপে পড়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নেও ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে করে ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন কাদের।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তারা খুব বাজেভাবে পেশাদারিত্বের বাহিরে গিয়ে একটা ছাত্রসংগঠনকে ফেভার দিয়ে গেছেন। দলীয় নিয়োগের কারণে হোক আর যে কারণেই হোক, অনেকক্ষেত্রে সরাসরি তারা দলীয় এজেন্ডা সার্ভ করেছেন, তাদেরকে ঐ ছাত্রসংগঠন প্রেশারাইজ করে সার্ভ করতে বাধ্য করেছেন, যেটা করতে গিয়ে মূল কাজটা সুচারুরূপে করতে পারেন নাই তারা; ক্যাম্পাসকে ভারসাম্যহীন এবং বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিয়েছেন।’
এরপর সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন মোনামির নাম উল্লেখ না করে আরও একটি অভিযোগ করেন আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ তো পার্ট টাইম সহকারী প্রক্টর এবং ফুল টাইম উক্ত দলের পেইড এজেন্ট হিসেবে রোল প্লে করে গেছেন।’
তবে সমালোচনার পাশাপাশি বিদায়ী প্রক্টরিয়াল টিমের শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগগুলোরও প্রশংসা করেন তিনি। পোস্টে কাদের লেখেন, ‘সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে তাদের শিক্ষার্থীবান্ধব প্রচেষ্টাগুলোর জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ এবং শুভকামনা জানাই।’
এদিকে পদত্যাগের পর নতুন প্রক্টর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন প্রশাসনের কাছে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন আব্দুল কাদের।