• ঢাকা
  • রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২১ পিএম


মিয়ানমারে মার্কিন কূটনীতিকের রহস্যজনক মৃত্যু, থাই নারী আটক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ জুন ২০২৬ ১০:৩১ পিএম

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে কর্মরত এক মার্কিন কূটনীতিককে মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় একজন থাই নারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ‘পরিবার ও স্বজনদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ মুহূর্তে আমাদের কাছে দেওয়ার মতো আর কোনো তথ্য নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিয়ানমারে কর্মরত কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের তিন সদস্য জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইয়াঙ্গুনের সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেল থেকে ওই কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সুবিধাসম্পন্ন এই হোটেলটি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন থাই নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার পরিচয় বা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। দেশটির সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রপন্থী বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাকুরা হোটেল এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ স্টেশনের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি একপর্যায়ে ফোন সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন। অন্যদিকে হোটেল কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এছাড়া ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত থাই দূতাবাস এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আটক ওই নারীকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না কিংবা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মিয়ানমার কিংবা থাইল্যান্ডের কোনো কর্তৃপক্ষই মৃত্যুর কারণ বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

/এএসএফ