• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ পিএম


পড়তে-লিখতে জানেন না, তবু ৭১ বছর বয়সে কুরআনের হাফেজ দুই মিশরীয় নারী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:১১ পিএম

পড়তে বা লিখতে জানেন না। কিন্তু রেডিওতে কুরআন তিলাওয়াত শুনে এবং দীর্ঘদিনের অনুশীলনের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করেছেন মিশরের ৭১ বছর বয়সি সুকরা সেলিম। একই বয়সে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী থানা জিদানও সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করেছেন। মেনুফিয়া প্রদেশের মিত শেহালা গ্রামের এই দুই নারীর কুরআনের সঙ্গে দীর্ঘ সাধনার গল্প দেশটির সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।সুকরা সেলিম ৫০ বছর বয়সে কুরআন হিফজের যাত্রা শুরু করেন। হিফজের শুরুর দিকে তিনি প্রতিদিন মাত্র দুই আয়াত মুখস্থ করতেন। এরপর সারা দিন সেই আয়াতগুলো বারবার অনুশীলন করতেন। পড়তে-লিখতে না জানার কারণে রেডিওতে কুরআন তিলাওয়াত শোনা এবং হিফজের আসরে অংশ নেওয়াই ছিল তার শেখার প্রধান মাধ্যম।স্বামী মারা যাওয়ার সময় সুকরার কুরআনের ১৬ পারা মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। স্বামীর মৃত্যুর পরও তিনি হিফজের অনুশীলন বন্ধ করেননি। নিয়মিত চর্চা চালিয়ে একপর্যায়ে তিনি পুরো কুরআন মুখস্থ করে ফেলেন।বর্তমানে সুকরা ও থানা একসঙ্গে প্রতিদিন পাঁচ পারা করে কুরআন পুনরাবৃত্তি করেন। এভাবে তারা সপ্তাহে একবার সম্পূর্ণ কুরআন খতম করেন।অন্যদিকে, থানা জিদানের ছোটবেলা থেকেই কুরআন হিফজ করার ইচ্ছা ছিল। তবে পারিবারিক দায়িত্ব ও সন্তানদের বড় করার কাজে দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকতে হয় তাকে। সন্তানদের দায়িত্ব পালন শেষ করার পর তিনি কুরআন হিফজে মনোযোগ দেন। অবশেষে ৬৫ বছর বয়সে তিনি পুরো কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন।হিফজ শেষ হওয়ার পরও থেমে থাকেননি থানা। সুকরার সঙ্গে নিয়মিত কুরআন পুনরাবৃত্তি করে আসছেন তিনি। দীর্ঘদিনের সেই অনুশীলনের ফলও মিলেছে সাম্প্রতিক এক আয়োজনে।গত ৩০ আগস্ট ‘বিশ্ব কুরআন বর্ণনা দিবস’-এর আয়োজনে অংশ নেন থানা। ফজরের নামাজের পর তিনি মুখস্থ থেকে কুরআন তেলাওয়াত শুরু করেন। এরপর প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে এক বৈঠকে সম্পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত করেন ৭১ বছর বয়সি এই নারী।একই আয়োজনে অংশ নেন সুকরাও। তিনিও মুখস্থ থেকে কুরআন তেলাওয়াত করেন। আল-আজহারের তত্ত্বাবধানে তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এই কর্মসূচির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘পড়ো ও উন্নত হও’। মিশরের বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হাফেজদের মুখস্থ থেকে কুরআন তেলাওয়াতের সুযোগ দেওয়া হয়।কুরআন হিফজ ও তেলাওয়াতের স্বীকৃতি হিসেবে পরে মেনুফিয়া প্রদেশের ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষ সুকরা ও থানাকে সম্মাননা দেয়। এরপর সৌদি আরবপ্রবাসী মিশরীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাইসাম সুলতান তাদের জন্য ওমরাহ পালনের দুটি সফর উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন। তাদের ওমরাহ পালনে পাঠানোর পরিকল্পনাও জানানো হয়।পড়তে-লিখতে না জেনেও শুনে শুনে কুরআন মুখস্থ করা ৭১ বছর বয়সি সুকরা সেলিম এবং দীর্ঘ সাধনায় একই বয়সে পুরো কুরআন হিফজ করে এক বৈঠকে তা তেলাওয়াত করা থানা জিদানের ঘটনা মিশরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

/বিএসএস