• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম


থাইল্যান্ডের দক্ষিণে নতুন মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা, বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬:৫৭ পিএম

দীর্ঘদিন ধরে চলা থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের রক্তক্ষয়ী সংঘাত নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে প্রধান মালয়-মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)।

স্বাধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে গোষ্ঠীটি। তাদের এই অবস্থান থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিআরএনের শান্তি আলোচনাবিষয়ক প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে চলা সশস্ত্র বিদ্রোহে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটলেও স্বাধীনতার দাবি থেকে সরে আসেনি তাদের সংগঠন।

কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে সেরি বলেন, ‘এই সংগ্রাম কিয়ামত পর্যন্ত চলবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈষম্যের অবসানে আমাদের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া অবধি আমরা লড়াই অব্যাহত রাখব।’

থাইল্যান্ডের মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলের চারটি প্রদেশে ১৯৬০-এর দশক থেকেই স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিআরএন। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চল একসময় স্বাধীন ‘পাতানি সালতানাতের’ অংশ ছিল। পরে ১৯০০-এর দশকের শুরুর দিকে থাইল্যান্ড, যা তখন সিয়াম নামে পরিচিত ছিল, অঞ্চলটি দখল করে নেয়। ২০০৪ সাল থেকে ওই এলাকায় অস্থিরতা ও সহিংসতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা ডিপ সাউথ ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে সন্ত্রাসী, থাই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ মানুষসহ সাত হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ২০০৫ সাল থেকে অঞ্চলটি জরুরি সামরিক আইনের আওতায় রয়েছে।

সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্যে ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় বিআরএন ও থাই সরকারের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলে আসছে। তবে গত জুলাইয়ে বিআরএনের সন্দেহভাজন হামলায় পাঁচজন থাই সেনা নিহত হওয়ার পর ব্যাংকক উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক আলোচনা স্থগিত করে।

এ পরিস্থিতিতে বিআরএনের প্রতিনিধি নিকমাতুল্লাহ জানান, তারা থাই সরকারের কাছে শক্তি বা ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন ইসলামিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই ব্যবস্থা শরিয়া আইন ও বিশেষ আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

তবে থাইল্যান্ড বিআরএনের স্বাধীনতা কিংবা দেশ ভাগের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্যাংককের প্রধান আলোচক থানুত সুবর্ণানন্দ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আলোচনার টেবিলে থাইল্যান্ডকে ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে চেকপয়েন্ট কমানো এবং যুদ্ধবিরতি অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাময়িকভাবে আলোচনা স্থগিত থাকলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামাজিক উন্নয়ন এবং শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সরকারের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ খালেদ নরদিন এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার জন্য নতুন একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কুয়ালালামপুর থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ আইনকে সম্মান করে এবং কোনো সশস্ত্র বা সহিংস গোষ্ঠীকে মালয়েশিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলেও তিনি জানান।

এদিকে বিআরএনের মুখপাত্র ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলমান অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে আগামী অক্টোবরে থাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিআরএন ‘গোপন দ্বিপক্ষীয় আলোচনায়’ বসতে পারে।

/এসএন