একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি ছিলেন ফারুক হোসেন নামে এক যুবক। জেলা কারাগারের ফটকে তার জীবনে ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। জন্মের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মারা যাওয়া নবজাতক সন্তানের সঙ্গে সেখানেই হয় তার প্রথম ও শেষ দেখা।ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৪ মার্চ রাতে Lakshmipur জেলা কারাগারে।কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল জানান, সন্তানের দিকে তাকিয়ে ফারুক শুধু বলেছিলেন, “স্যার, কথা বলে না যে?” সেই মুহূর্তে নিজের কষ্ট লুকিয়ে তাকে সান্ত্বনা দিতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।জানা গেছে, ঘটনার পাঁচদিন আগে ফারুকের স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের কোলজুড়ে আসে নবজাতক সন্তান।
কিন্তু জন্মের পর থেকেই শিশুটি অসুস্থ ছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এরপর মৃত সন্তানকে একবার বাবার মুখ দেখানোর আকুতি নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কারাগারের সামনে আসেন শিশুটির মা। যদিও রাতে বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের নিয়ম নেই, তবুও মানবিক দিক বিবেচনায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়।রাত তখন প্রায় ১২টা। চারপাশ নিস্তব্ধ।
জেলা কারাগারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সে মৃত নবজাতককে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তার মা ও স্বজনরা। পরে কারাফটকে আনা হয় কারাবন্দি ফারুককে। সেখানে মৃত সন্তানকে কোলে তুলে নিয়ে শেষবারের মতো আদর করেন তিনি। সেটিই ছিল বাবা ও সন্তানের প্রথম এবং শেষ মিলন।জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
মানবিক বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কারাবন্দি বাবাকে সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়। নিয়মের পাশাপাশি মানবিকতাও দায়িত্বের অংশ।পরে এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন জেলার সোহেল। সেখানে পুরো ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি।
/বিএসএস