নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদীতে আপন চাচির বিরুদ্ধে মাত্র দুই মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ঘটনার তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত নারীর স্বামীসহ পরিবারের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত লতা বেগম (৩২) পলাতক রয়েছেন।পারিবারিক বিরোধের জেরে আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার চাঁনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ দিন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির একটি ভিডিও মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ দিন আগে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে রাগের বশে লতা বেগম ঘরে ঢুকে শিশু রিজিকের পা মুচড়ে দেন। এ সময় শিশুটির মা গোপনে মুঠোফোনে ঘটনাটি ধারণ করেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমের কাছে দেন। তবে কীভাবে এবং কার মাধ্যমে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ আরও জানায়, ভাইরাল হওয়া তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, শিশুর পা ভেঙে যাওয়ার দাবির সত্যতা মেলেনি। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া ও শাশুড়ি শেফালী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। এ সময় একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।অন্যদিকে, শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে। তাদের দাবি, শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে, তার পা ভাঙেনি এবং কোনো ধরনের ব্যান্ডেজ বা চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি।
এ ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানান তারা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন শিশুটির মা-বাবা।এদিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পলাতক লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
/বিএসএস