• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৭ এএম


তিন প্রতিবন্ধী হিন্দু ভাইয়ের দায়িত্ব নিলেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ জুন ২০২৬ ৪:৩৯ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফলে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করা সনাতন ধর্মাবলম্বী তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত নিজের এক মাসের বেতন-ভাতা তাদের সহায়তায় দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বসতঘর পুনর্নির্মাণ এবং নিয়মিত খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

তিনি জানান, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের ধুলিয়া ইউনিয়নের চাদকাঠি গ্রামের তিন প্রতিবন্ধী ভাই—রিপন দাস, সাধু দাস ও নিধু দাসের পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তার এক মাসের সংসদ সদস্য ভাতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বসতবাড়ি পুনর্নির্মাণ এবং নিয়মিত খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, গণমাধ্যমে তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের দুর্দশার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশের সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করে না। দলমত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিককে সমানভাবে বিবেচনা করা হয়। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাও ইসলামের নির্দেশনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরম দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন রিপন দাস, সাধু দাস ও নিধু দাস। তাদের দুর্দশার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

/এসএন