• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম


ইরানের হাতে পড়ার ভয়ে নিজেদের দুই বিমান ধ্বংস করলো যুক্তরাষ্ট্র!

আপডেট টাইম: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৬:১১ পিএম

ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জটিল এক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি পরিবহন বিমান শত্রুপক্ষের হাতে পড়ার আশঙ্কায় নিজ বাহিনীই ধ্বংস করে দেয়।

গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইরান। বিমানের দুই ক্রুর মধ্যে একজনকে দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয়, আর অপরজনকে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের দুর্গম এলাকায় গোপনে একটি অস্থায়ী রানওয়ে তৈরি করে মার্কিন কমান্ডোরা। প্রথমে দুটি পরিবহন বিমান পাঠানো হলেও কারিগরি ত্রুটি বা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সেগুলো সেখানে আটকে পড়ে।

পরবর্তীতে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে আরও তিনটি বিমান পাঠানো হয়। আটকে পড়া দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান যাতে ইরানের হাতে না পড়ে, সেজন্য সেগুলো ধ্বংস করে দেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী।

ইরানি এক সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে, দুর্গম ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অস্থায়ী রানওয়ে স্থাপন করেছিল, যেখানে পরিবহন বিমানগুলো আটকে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জটিল এই অভিযানে শতাধিক বিশেষ বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। উদ্ধার হওয়া ক্রু, যিনি যুদ্ধবিমানটির ওয়েপন সিস্টেম অফিসার ছিলেন, তাকে চিকিৎসার জন্য কুয়েতে নেওয়া হয়েছে।

নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে তিনি এ ঘটনাকে ‘মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, আহত হলেও ওই ক্রু দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। তিনি আরও বলেন, শত্রু বাহিনী ঘিরে ফেলার আগমুহূর্তে ওই সেনাকে উদ্ধার করা হয়।

ট্রাম্প দাবি করেন, তার নির্দেশে বিশ্বের অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত একাধিক যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নেয়। সামরিক ইতিহাসে এই প্রথম শত্রু এলাকায় পৃথকভাবে দুইজন মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করা হলো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।