• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ এএম


জানালেন তাসনিম জারা

অ্যালার্জি কেন হয়, কীভাবে বাঁচবেন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ৯:২৯ পিএম

আমাদের শরীরটা আসলে একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো কাজ করে। যেমন রাতে মহল্লায় পাহারাদার টহল দেয়, তেমনি আমাদের শরীরেও সারাক্ষণ কিছু “পাহারাদার” কাজ করে—এগুলোই আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। প্রতিদিন আমরা খাবারের মাধ্যমে, বাতাসের মাধ্যমে অসংখ্য জীবাণু শরীরে নিচ্ছি, কিন্তু সবসময় অসুস্থ হচ্ছি না—কারণ এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।

তবে সমস্যা হয় তখন, যখন এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে। কোনো নিরীহ জিনিস—যেমন খাবার, ধুলা বা ফুলের রেণু—এগুলোকে শত্রু মনে করে আক্রমণ শুরু করে। এই অপ্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়াকেই আমরা অ্যালার্জি বলি।

ধরুন, কেউ ভুনা খিচুড়ি, ইলিশ মাছ আর বেগুন ভাজি খেলেন। খাওয়ার পর হঠাৎ তার শরীরে লাল চাকা উঠলো, চুলকানি শুরু হলো। আসলে খাবারের কোনো একটি উপাদানকে শরীর ভুল করে ক্ষতিকর ভেবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। অথচ অন্যদের কিছুই হয়নি। অর্থাৎ জিনিসটা সবার জন্য ক্ষতিকর নয়, কিন্তু নির্দিষ্ট ব্যক্তির শরীর সেটাকে সহ্য করতে পারে না—এটাই অ্যালার্জির মূল বিষয়।

অ্যালার্জি সাধারণত গুরুতর না হলেও অনেক সময় বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক রূপও নিতে পারে, যা জীবনহানির কারণ হতে পারে। তাই এটি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো—যে জিনিসে অ্যালার্জি হয়, সেটি এড়িয়ে চলা। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় ঠিক কোন জিনিসে অ্যালার্জি হচ্ছে তা বোঝা সহজ না। এজন্য নিজের অভ্যাস, খাবার, পরিবেশ—সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে ধীরে ধীরে কারণটি খুঁজে বের করতে হয়।

অ্যালার্জির সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাস্ট মাইট (অতি ক্ষুদ্র পোকা যা ধুলায় থাকে), ছত্রাক বা মোল্ড, ফুলের পরাগ রেণু, পশুপাখির লোম, ধুলাবালি, কিছু খাবার (যেমন চিংড়ি, বাদাম, ডিম), কিছু ওষুধ (যেমন পেনিসিলিন), এমনকি সাবান, পারফিউম বা কাপড়ের উপাদানও।

ডাস্ট মাইট থেকে বাঁচতে নিয়মিত বিছানার চাদর ও কভার গরম পানিতে ধোয়া, ঘর পরিষ্কার রাখা এবং কার্পেট কম ব্যবহার করা ভালো। ছত্রাক এড়াতে ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ দূর করতে হবে। পরাগ রেণুর অ্যালার্জি থাকলে নির্দিষ্ট মৌসুমে বাইরে কম যাওয়া এবং বাইরে থেকে এসে কাপড় পরিবর্তন করা উপকারী।

অ্যালার্জি হলে কী করবেন? সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা হলো অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ, যা শরীরের প্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া চুলকানি কমাতে ঠাণ্ডা সেক, লোশন বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়। নাক বন্ধ বা চোখ চুলকানোর জন্যও আলাদা ওষুধ রয়েছে।

তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শক্তিশালী ওষুধ যেমন স্টেরয়েড ব্যবহার করা বিপজ্জনক হতে পারে। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে অন্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই এসব ওষুধ ব্যবহারে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

আরেকটি চিকিৎসা পদ্ধতি হলো ইমিউনোথেরাপি, যেখানে ধীরে ধীরে অ্যালার্জির কারণের প্রতি শরীরকে সহনশীল করে তোলা হয়। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে করতে হয়।

সবশেষে, কিছু অ্যালার্জি খুব দ্রুত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে—যেমন শ্বাসকষ্ট, মুখ বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

সঠিকভাবে কারণ চিহ্নিত করা এবং সচেতন থাকা গেলে অ্যালার্জি পুরোপুরি না গেলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই নিজের শরীরের সংকেতগুলো বুঝে চলা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: সহায় হেলথ।