চোখের দৃষ্টি হারানোর পর চরম অভাবের তাড়নায় মা চেয়েছিলেন ছেলে ভিক্ষা করুক। কিন্তু হাত না পেতে আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে বেছে নেন সৎ উপার্জনের পথ। প্রথমে মিষ্টির গাছ থেকে পাটালি গুড়, তারপর আলু ও বাদাম বিক্রি করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শেষমেষ থিতু হন মাছ বিক্রির ব্যবসায়।
চোখের আলো হারিয়ে গেলে যেখানে পৃথিবীর সবকিছুই থমকে যাওয়ার কথা, সেখানে বেঁচে থাকার এক অদম্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের আশরাফুল আলম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় চোখে ভাইরাস লাগার পর চিকিৎসা না পাওয়ায় ডান চোখ এবং পরবর্তীতে এক দুর্ঘটনায় বাম চোখের দৃষ্টিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেন তিনি।
কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদের সামনের হাটে প্রতিদিন হাতের আলতো স্পর্শেই তিনি চিনে নেন মাছের ধরণ। নিখুঁত অনুমানে দাঁড়িপাল্লায় মাপা থেকে শুরু করে ক্রেতাদের দেওয়া টাকার নোট স্পর্শ করেই বুঝে নেন সঠিক হিসাব। প্রতিদিন ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে স্ত্রী, সন্তান ও নাতিসহ পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র ভরসা এখন তিনি।
তার এই অবিশ্বাস্য দক্ষতা ও সততায় মুগ্ধ স্থানীয় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে তুড়ি মেরে বাঁচার এই সংগ্রাম সমাজের হাজারো মানুষের জন্য আজ এক অনন্য অনুপ্রেরণা।