• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম


বাংলাদেশের পোলট্রি মুরগিতে মিলল মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫৫ পিএম

বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসের কিছু নমুনায় আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল (অ্যান্টিবায়োটিক) অবশিষ্টাংশ বা রেসিডিউ পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এ ধরনের অবশিষ্টাংশ জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।যুক্তরাজ্যের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ (আরভিসি)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পোলট্রি নিউজ। গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা অংশ নেন।গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বর্তমানে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাণীর চিকিৎসায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং নির্ধারিত অপেক্ষার সময় শেষ হওয়ার আগেই জবাই করার ফলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২১ ও ২০২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে মোট ৫৫৮টি ব্রয়লার মুরগির বুকের মাংসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে নমুনাগুলো পরীক্ষা করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড অনুযায়ী ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়।ফলাফলে দেখা যায়, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ৩ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ২০২১-২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এ হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।গবেষকদের ধারণা, কিছু ক্ষেত্রে জবাইয়ের ঠিক আগে প্রাণীর শরীরে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রয়োগ করায় মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে।গবেষণার প্রধান গবেষক রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড বলেন, এশিয়ায় একই মানদণ্ডে পোলট্রি মাংসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ মূল্যায়নের এটি প্রথম দিকের একটি গবেষণা। এর মাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ‘ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাব’-এর মাধ্যমে। এতে অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (ইউকেআরআই) গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।

/বিএসএস