• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ পিএম


ঔপনিবেশিক নামের ইতি, ‘নাউরু’ এখন ‘নাওয়েরো’!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ আগস্ট ২০২৬ ৭:৫১ পিএম

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুর সরকারি নাম পরিবর্তন করে ‘নাওয়েরো প্রজাতন্ত্র’ রাখা হয়েছে। দেশটির জাতীয় ভাষার বানান ও উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশটির আন্তর্জাতিক কোডও ‘NRU’ থেকে ‘NRO’ করা হচ্ছে। এতদিন দেশটির নাগরিকদের ‘নাউরুয়ান’ বলা হলেও এখন থেকে তাদের ‘দেই-নাওয়েরো’ নামে অভিহিত করা হবে। বিদেশে প্রচলিত ‘নাউরু’ উচ্চারণের পরিবর্তে নতুন নামটি উচ্চারিত হবে ‘নাও-য়েরো’

সরকারের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত দ্বীপরাষ্ট্রটি তার ঐতিহ্যবাহী নাম পুনরুদ্ধার করেছে।

এর আগে সরকারি এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, স্থানীয় নামটি বিদেশিদের উচ্চারণ সহজ করতে আন্তর্জাতিকভাবে ‘নাউরু’ নামটি ব্যবহার করা হতো। এটি স্থানীয় জনগণের পছন্দের নাম ছিল না।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করে প্রেসিডেন্ট ডেভিড অ্যাডিয়াং বলেছিলেন, এই উদ্যোগ দেশের ঐতিহ্য, ভাষা ও জাতীয় পরিচয়কে আরও যথাযথভাবে সম্মান জানাবে।

সাম্প্রতিক ঘোষণায় তিনি বলেন, নতুন নাম গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় গৌরবের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। মে মাসে পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তনের পক্ষে ভোট হওয়ার পর বিষয়টি চূড়ান্ত করতে গণভোটের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরে সরকার জানায়, ব্যাপক আলোচনা শেষে আইনপ্রণেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে এ বিষয়ে গণভোটের প্রয়োজন নেই।

সরকারের ভাষ্য, ‘নাওয়েরো’ নামটি কখনো হারিয়ে যায়নি। এটি বহুদিন ধরেই স্থানীয়দের পরিচয়, জাতীয় প্রতীক এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের অংশ। পাশাপাশি সংবিধানেও এ নাম ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে।

নাম পরিবর্তনের ফলে দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থা ও জাহাজের নামেও পরিবর্তন আনা হবে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে নতুন নামের স্বীকৃতির জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে দেশটির নতুন নাম ‘নাওয়েরো’ উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, জুন মাসে জাতিসংঘের কাছে নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দূতাবাসগুলোর ওয়েবসাইটেও নতুন নাম ব্যবহার শুরু হয়েছে।

প্রায় ১২ হাজার জনসংখ্যার নাওয়েরো বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র। এর চেয়ে ছোট কেবল টুভালু ও ভ্যাটিকান সিটি। প্রবাল ও চুনাপাথরের এই দ্বীপ একসময় জার্মান উপনিবেশ ছিল। পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনের অধীনে থেকে ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।

দেশটির অর্থনীতি একসময় ফসফেট খনির ওপর নির্ভরশীল ছিল। ১৯৭০-এর দশকে এ খাত থেকে বিপুল সম্পদ এলেও শিল্পটির পতনের পর ১৯৯০-এর দশকে দেশটি তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি নাওয়েরো। এ সংকট মোকাবিলায় অবকাঠামো রক্ষা ও পুনর্বাসনের অর্থ জোগাড় করতে সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার কর্মসূচিও চালু করেছে।

ঔপনিবেশিক নাম থেকে সরে এসে ঐতিহ্যবাহী নাম গ্রহণের ধারাবাহিকতায় নাওয়েরোও নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করল। এর আগে ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে এসওয়াতিনি রাখা হয়। একইভাবে ২০২২ সালে তুরস্ক জাতিসংঘকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘তুর্কিয়ে’ নাম ব্যবহারের অনুরোধ জানায়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এএসএফ