• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম


হরমুজে উত্তেজনার মাঝে জাহাজ চলাচলে ছাড়ের ইঙ্গিত ইরানের

আপডেট টাইম: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৯:৩৬ পিএম

ইরান হরমুজ প্রণালীর ওমান অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে পারে বলে তেহরান-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনায় ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন করে সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তি হলে তারা এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারে।

ওমানের মুসান্দাম প্রদেশ উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালীতে ১২ এপ্রিল ২০২৬ একটি জাহাজ চলাচলের দৃশ্য ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবকে মূলত প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে অপেক্ষমাণ শত শত জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানায়, ইরান সম্ভবত কোনো বাধা ছাড়াই ওমানের জলসীমায় থাকা প্রণালীর সংকীর্ণ অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর এক মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিষ্ঠিত ট্র্যাফিক ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যেকোনো উদ্যোগই স্বাগত।

এই প্রস্তাবকে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের তুলনামূলক কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার প্রথম দৃশ্যমান ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে তেহরান আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের জন্য ফি আদায় এবং প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মতো দাবি তুলেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শত শত ট্যাঙ্কার ও অন্যান্য জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন। ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে—তবে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

সূত্রটি আরও জানায়, ইরান প্রণালীর ওমান অংশে স্থাপিত মাইন সরাতে রাজি হবে কি না, কিংবা ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজসহ সব জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেবে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটন তেহরানের শর্তগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত কি না তার ওপর, যা সম্ভাব্য অগ্রগতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।