• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম


‘নিজের পরিবারকে সময় দিন’— ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদের খবর জানিয়ে আবেগঘন বার্তা ডা. সুষমা রেজার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৭ জুন ২০২৬ ১১:২২ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত চিকিৎসক দম্পতি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুষমা রেজা ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশাল তাদের বৈবাহিক জীবনের ইতি টেনেছেন। শনিবার (২৭ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে ডা. সুষমা রেজা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, দীর্ঘ চিন্তাভাবনা ও আত্মসমালোচনার পর তারা দুজন পারস্পরিক সম্মতিতে বৈবাহিক সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, এতদিন যারা তাদের ভালোবেসেছেন এবং পথচলার সঙ্গী হয়েছেন, তাদের অনেকের কাছেই এ সংবাদ কষ্ট, বিস্ময় কিংবা নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। সেই ভালোবাসা ও আস্থার প্রতি সম্মান রেখেই তারা চেয়েছেন, অন্য কোথাও থেকে নয়, বরং নিজেদের কাছ থেকেই সবাই এ খবরটি জানুক। নতুন জীবনের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

ডা. সুষমা রেজা উল্লেখ করেন, খুব অল্প বয়সে তাদের একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল। দেখতে দেখতে প্রায় দুই দশক কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে তারা একটি পরিবার গড়ে তুলেছেন, সন্তানদের বড় হতে দেখেছেন এবং জীবনের অসংখ্য সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম, অর্জন ও স্মৃতির অংশীদার হয়েছেন। তিনি বলেন, এসব স্মৃতি সবসময়ই তাদের জীবনের মূল্যবান অংশ হয়ে থাকবে।

তিনি আরও লিখেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা দুজনই উপলব্ধি করেছেন যে, তাদের সম্পর্ক আর সেই জায়গায় নেই, যেখান থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারাও বদলেছেন, বদলেছে সম্পর্কের অবস্থানও। একপর্যায়ে তারা বুঝতে পেরেছেন, জীবনের এই পর্যায়ে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াই উভয়ের জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক সিদ্ধান্ত।

ডা. সুষমা রেজা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি যেকোনো সম্পর্কের মতো তাদের সম্পর্কেও ছিল আনন্দ, সংগ্রাম, সীমাবদ্ধতা এবং অসংখ্য আশীর্বাদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ তাদের জীবনের যে মুহূর্তগুলো দেখেছেন, সেগুলো কখনোই একটি নিখুঁত সম্পর্কের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা ছিল না। বরং সেগুলো ছিল তাদের বাস্তব জীবনের আন্তরিক ও সত্যিকারের কিছু মুহূর্ত, যা তারা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।

তিনি তাদের পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ পথচলায় যেভাবে সবাই তাদের পাশে থেকেছেন, সাহস যুগিয়েছেন, ভালোবেসেছেন এবং দোয়া করেছেন, তার জন্য তারা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে ব্যক্তিগত ঘটনা খুব দ্রুত জনআলোচনার বিষয়ে পরিণত হয় উল্লেখ করে তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান, তাদের জীবনের এই অধ্যায়কে যেন অনুমান, গুজব কিংবা বিচার-বিশ্লেষণের বিষয় না করা হয়। তিনি বলেন, একটি ভাইরাল খবরের আড়ালে রক্ত-মাংসের বাস্তব মানুষ থাকে, যারা জীবনের অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও কঠিন একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাই তাদের ব্যক্তিগত পরিসর ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ করে পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উদ্দেশে ডা. সুষমা রেজা অনুরোধ করেন, তাদের সন্তান, বাবা-মা কিংবা ভাইবোনদের সামনে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করতে। তিনি বলেন, এই পরিবর্তন তাদের প্রত্যেককে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে, যার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, তারা দুজন সময় নিয়ে ধীরে ধীরে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু যাদের তারা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, তাদের অনেকের কাছেই এই বাস্তবতা এখনো নতুন, অপ্রস্তুত এবং গভীরভাবে বেদনাদায়ক। তাই সবার সামান্য সহমর্মিতা, সংবেদনশীলতা ও সংযম হয়তো তাদের জন্য এই সময়টুকু কিছুটা সহজ করে দিতে পারে।

প্রায় ২০ বছরের যৌথ জীবনের সমাপ্তি টানছেন তারা পরস্পরের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং শান্ত গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই—এ কথাও উল্লেখ করেন ডা. সুষমা রেজা।

পোস্টের শেষাংশে তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে একটি বার্তা দিয়ে লেখেন, ‘নিজের পরিবারকে সময় দিন। প্রিয় মানুষগুলোর হাত শক্ত করে ধরে রাখুন। জীবন খুবই ভঙ্গুর। আজকের সাধারণ, নীরব মুহূর্তগুলোই কখন যে আগামী দিনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিতে পরিণত হয়, আমরা অনেক সময় তা বুঝতেই পারি না। তাই প্রতিটি মুহূর্ত বাঁচুন সচেতনভাবে, কৃতজ্ঞতায় এবং আন্তরিকতায়।’

/এসএন