• ঢাকা
  • রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম


গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি যাওয়া দুই লেমুরের সন্ধান ভারতে আম্বানির ‘বনতারায়’!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৪ পিএম

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিপন্ন প্রজাতির তিনটি রিংটেইল লেমুরের মধ্যে দুটির সন্ধান মিলেছে ভারতের গুজরাটে। প্রাণী দুটি ভারতের শীর্ষ ধনকুবের অনন্ত আম্বানির বন্য প্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রকল্প ‘বনতারা’য় রয়েছে বলে সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একাধিক ব্যক্তির হাত ঘুরে লেমুর দুটি সেখানে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয়।

২০২৫ সালের ২৩ মার্চ গভীর রাতে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরি হয়। তদন্তে জানা যায়, নিরাপত্তাকর্মী নিপেন মাহমুদের সহযোগিতায় জুয়েল নামে এক বন্য প্রাণী চোরাকারবারি লেমুরগুলো চুরি করেন। পরে এর মধ্যে দুটি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়।

সিআইডির তদন্ত ও আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, চুরি করা লেমুরগুলো প্রথমে বাংলাদেশের একটি বাড়িতে রাখা হয়। পরে সেগুলোর ছবি ও ভিডিও ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হয়। কলকাতার বাবলু ও মুম্বাইয়ের শিপলু নামে দুই ব্যক্তি বাংলাদেশে এসে দেলোয়ার ও তপনের মাধ্যমে লেনদেনের সমন্বয় করেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, একটি প্রাপ্তবয়স্ক লেমুর ও একটি শাবক ১৭ লাখ টাকায় এবং আরেকটি শাবক ৩ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়েছিল।

সীমান্ত পার হওয়ার পর লেমুর দুটি একাধিক ব্যক্তির হাত ঘুরে ভারতের গুজরাটের জামনগরে পৌঁছায়। পরে সেগুলো ‘বনতারা’ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বনতারায় থাকা লেমুর দুটির ছবি প্রকাশের পর বাংলাদেশের তদন্তকারীরা সেগুলোর সঙ্গে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুরের মিল খুঁজে পান। এরপর প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু হয়।

তবে লেমুর দুটি দেশে ফিরিয়ে আনতে জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রাণীগুলোর শরীরে কোনো অণুচিপি, স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর বা সংরক্ষিত বংশগতির নমুনা নেই। বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা একটি লেমুর শাবকের বংশগতির নমুনা পরীক্ষা করে পাচার হওয়া দুটি লেমুরের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার সহযোগিতাও চেয়েছে বাংলাদেশ।

‘বনতারা’ রিলায়েন্সের মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা একটি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্প। এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানি।

রিংটেইল লেমুর মাদাগাস্কারের স্থানীয় প্রাণী। এটি আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার লাল তালিকায় ‘গুরুতরভাবে বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত। পাশাপাশি এটি বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণবিষয়ক চুক্তির প্রথম পরিশিষ্টের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিশেষ শর্ত ছাড়া এর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষিদ্ধ।

সিআইডি জানিয়েছে, এ ঘটনায় করা মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

/এএসএফ