ইরান যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ক্যাপিটল হিলে নিজের প্রথম শুনানিতেই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটি-এর শুনানিতে পেন্টাগন জানায়, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার।
পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত নিয়ন্ত্রক জে হার্স্ট জানান, এই ব্যয়ের বড় অংশই গোলাবারুদ, সামরিক সরঞ্জাম এবং অপারেশনাল খাতে খরচ হয়েছে।
তবে এই হিসাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, যুদ্ধের প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি গভীর।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ব্যয়সহ মোট খরচ ৬৩০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ লিন্ডা বিলমেস বলেন, “এই যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে।” তার মতে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছ
শুনানিতে সমালোচনার মুখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্যকে “বেপরোয়া ও পরাজয়বাদী” হিসেবে আখ্যা দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র-এ জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪.২৩ ডলারে পৌঁছেছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে।
রয়টার্স/আইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন মাত্র ২২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কারণে অতিরিক্ত ব্যয়ের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইন-এ অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিট সদর দপ্তর মেরামতে অন্তত ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।