মানিকগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করতে গিয়ে শ্বশুর ও শ্যালকের হাতে ধরা পড়েছেন এক জামাই। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জামাইয়ের লাথির আঘাতে শ্বশুরের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের শাকরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।নিহত সিদ্দিক গড়পাড়া ইউনিয়নের শাকরাইল গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে গ্রেপ্তার জামাই রাসেল একই ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে।জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে সিদ্দিকের মেয়ে আশার সঙ্গে রাসেলের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোররাত ২টার দিকে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির উদ্দেশে শ্বশুরবাড়িতে যান রাসেল। এ সময় তার শ্যালক শফিক ও শ্বশুর সিদ্দিক অন্ধকারে তাকে ধরে ফেলেন। একপর্যায়ে রাসেলের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। ধস্তাধস্তির সময় রাসেল তার শ্বশুরের অণ্ডকোষে লাথি মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে।পরে আলো জ্বালানোর পর পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, আটক ব্যক্তি আর কেউ নন, তাদের পরিবারের মেয়ে আশার স্বামী রাসেল। এ সময় শ্বশুর সিদ্দিক অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।অন্যদিকে রাসেলকে আটক করে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, রাসেল নেশাগ্রস্ত। নেশার টাকার জন্য তিনি মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড করেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।প্রত্যক্ষদর্শী বাবুল মিয়া বলেন, ‘চিৎকার, চেঁচামেচির শব্দ শুনে বের হয়ে গিয়ে দেখি সিদ্দিক ও তার মেয়ের জামাই রাসেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। একপর্যায়ে রাসেল সিদ্দিককে লাথি দিলে সে মাটিতে পইড়া যায়। পরে তারে হাসপাতালে নিলে হাসপাতাল থিকা বলে সে মইরা গেছে।’নিহতের স্ত্রী রুনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে চিৎকার করে জানায়, হ্যালো বাইকের ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। পরে তারা ওই ব্যক্তিকে ধরে দেখেন, তিনি তাদের মেয়ের জামাই রাসেল। এ সময় রাসেল তার স্বামীকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।তিনি শাস্তির দাবি করে আরও বলেন, রাসেলের সঙ্গে আরও দুইজন ছিল। তাদের একজনের নাম শাওন বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় রাসেলসহ জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন তিনি।এদিকে আসামি রাসেলের দাবি, তার শ্বশুর ঘর থেকে বের হয়েই তাকে দেখে হঠাৎ পড়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।অন্যদিকে জানা যায়, রাসেলের বিরুদ্ধে এর আগেও মোবাইল চুরির মামলা রয়েছে।মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, আসামি রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত সিদ্দিকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
/বিএসএস