যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রাম্যাক সিটিতে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিল সদস্য আবু আহমদ মুসা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে শহরের ৩১তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাঁর শপথ গ্রহণের কথা জানানো হলেও সিটি প্রশাসন বা আদালতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হ্যামট্রাম্যাকের ৩১তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক অ্যালেেক্সিস ক্রফট তাঁর চেম্বারে আবু আহমদ মুসাকে শপথবাক্য পাঠ করানোর কথা রয়েছে। শহরের মেয়র নির্বাচন ঘিরে প্রায় এক বছর ধরে চলা আইনি জটিলতার মধ্যেই দায়িত্ব পরিবর্তনের এই খবর সামনে এসেছে।আবু আহমদ মুসা হ্যামট্রাম্যাক সিটি কাউন্সিলের একজন নির্বাচিত সদস্য। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মেয়র প্রো টেম হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হ্যামট্রাম্যাক রিভিউ গত ১৬ অক্টোবর জানিয়েছিল, মেয়র নির্বাচন নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে মুসা ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে পরবর্তী সময়ে সিটি প্রশাসন জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাডাম আলহারারবি মেয়র হিসেবে বহাল থাকবেন।হ্যামট্রাম্যাকের মেয়র পদ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ওই নির্বাচনে অ্যাডাম আলহারারবিকে প্রথমে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে গণনার বাইরে থাকা ৩৩টি অ্যাবসেন্টি ব্যালট নিয়ে আদালতে মামলা করেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ।দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ১৬ অক্টোবর ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স বিতর্কিত ব্যালটগুলো গণনা করে। নতুন গণনায় মুহিত মাহমুদ পান ২ হাজার ৮৯ ভোট এবং অ্যাডাম আলহারারবি পান ২ হাজার ৭৭ ভোট। অর্থাৎ ১২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যান মাহমুদ। তবে তাঁর হ্যামট্রাম্যাকে বসবাসের যোগ্যতা নিয়ে আইনি বিরোধ থাকায় নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করা সম্ভব হয়নি।সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি মুহিত মাহমুদের পক্ষে রায় দেন। আদালত তাঁর বসবাসের যোগ্যতা বহাল রাখার পাশাপাশি বিতর্কিত ব্যালটসহ নির্বাচনের ফল প্রত্যয়নের নির্দেশ দেন। এর ফলে মাহমুদের মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পথে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধা দূর হয়।হ্যামট্রাম্যাক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, মেয়রের অনুপস্থিতিতে মেয়র প্রো টেম দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে সিটির সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে আবু আহমদ মুসাকে কাউন্সিল সদস্য এবং মোহাম্মদ হাসানকে মেয়র প্রো টেম হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ফলে সোমবারের কথিত শপথের পর মুসার আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদা ও দায়িত্বের মেয়াদ সম্পর্কে সিটি প্রশাসনের নতুন ঘোষণা প্রয়োজন।
/বিএসএস