• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪০ এএম


সংসারের হাল ধরতে প্রবাসে গিয়ে লাশ হলেন রুবেল, শেষবারের মতো দেখতে চান স্বজনেরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ৮:১৩ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় রুবেলের মৃত্যু, মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের আকুতিদক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রুবেল (৩৯) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রবাসে কাজ করতে যাওয়া রুবেলের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।নিহত রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত শাহ আলমের বড় ছেলে। জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে প্রবাসে কাজ করছিলেন রুবেল।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান রুবেল। সেখানে তিনি তাঁর ভায়রার দোকানে চাকরি করতেন। প্রবাসে কাজ করে দেশে থাকা পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে দোকানের প্রয়োজনীয় মালামাল কিনে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন রুবেল। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রুবেলের দেশে স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মা রয়েছেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। সংসারের খরচ কীভাবে চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্বজনেরা।প্রবাসে পরিবারের জন্য উপার্জন করতে গিয়ে রুবেলের এমন পরিণতিতে তাঁর নিজ গ্রামেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজন ও পরিচিতজনেরা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, কীভাবে প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখতে পারবেন তাঁরা।রুবেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহযোগিতা চেয়েছে তাঁর পরিবার। স্বজনদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে। বিদেশের মাটিতে মৃত্যুর কারণে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলেও মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা।এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। রুবেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।রুবেলের পরিবার এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রবাসে কর্মরত এই বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে স্বজনেরা তাঁর শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মায়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।

সূত্র: আমেরিকা বাংলা

/বিএসএস