থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ব্যাংককসহ চারটি প্রদেশে দুই দিনের বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে ব্যাংককের পাশাপাশি নোনথাবুরি, পাথুম থানি ও সামুত প্রাকান প্রদেশে সোমবার ও মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিম্নচাপটি সরে যাওয়ায় ব্যাংককে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে রাজধানীর বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত এখনও অব্যাহত রয়েছে। বন্যায় প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার পরিবার এবং প্রায় ৭ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
গত রাতের বৃষ্টিতে নং চোক এলাকায় প্রায় ৬২ মিলিমিটার বা ২ দশমিক ৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া লাত ক্রাবাংয়ে ৫৫ মিলিমিটার এবং মিন বুরিতে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, রাস্তাঘাট ও আবাসিক এলাকা থেকে দ্রুত পানি সরিয়ে নিতে প্রধান খালগুলোর পানির স্তর কমানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাওয়েত বুরিওম ও লাত ফরাও খাল রয়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লাত ক্রাবাং, ব্যাং কাপি, খান না ইয়াও, সাই মাই, সুয়ান লুয়াং, সাপান সুং এবং লাক সি।
এদিকে ফেচাবুরি সড়কের কিছু অংশ আবার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বিভাবাদি রংসিট সড়কেও চলাচল পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতিতে ব্যাংকক মেট্রোপলিটন প্রশাসন প্রায় ১ হাজার ৫০০ শয্যাশায়ী রোগীকে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া সহায়তার আবেদনগুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত খাবার, খাবার পানি, উচ্চ-ক্লিয়ারেন্সের যানবাহন, তলা চ্যাপ্টা নৌকা এবং মোবাইল রান্নাঘর সরবরাহের জন্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
/এসএন