• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম


শিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ৪ কোপ, চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ জুলাই ২০২৬ ৮:৫৯ পিএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রাইভেট পড়ানোর বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা নামে এক স্কুলশিক্ষিকার ওপর দা দিয়ে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় তার মাথায় চারটি কোপ লাগে এবং হাতের চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোছা. প্রিয়া বেগম (২৫) স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে শিক্ষিকাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত সিঁথি সীমিতা (২৮) শিবপুর ইউনিয়নের ভূইয়া বাড়ির মৃত সুলয়মান মিয়ার মেয়ে এবং পানাউল্লাচর এলাকার ইতালি প্রবাসী মো. মুরাদ মিয়ার স্ত্রী। তিনি শিবপুর বিএমএ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। শিক্ষকতার পাশাপাশি গ্রামের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গৃহশিক্ষক হিসেবেও পড়ান।প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে তিনি প্রিয়া বেগমের চার বছর বয়সী মেয়ে সাফা মনিকে পড়াতে যান। পড়ানোর সময় তিনি প্রাইভেট পড়ানোর বকেয়া ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন।

পরে পড়ানো শেষে বাড়ির উদ্দেশে বের হয়ে যাওয়ার পর ফেলে আসা ছাতা আনতে আবার প্রিয়ার বাসায় ফিরে গেলে অভিযুক্ত নারী ক্ষিপ্ত হয়ে দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।শিক্ষিকার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে স্থানীয় ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার জানান, তার ভাবী একটি স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি প্রিয়া বেগমের মেয়েকে পড়াতে গিয়েছিলেন।

পড়ানো শেষে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ প্রিয়া বেগম দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির জানান, ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় অন্য কোনো কারণ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

/বিএসএস